আজ ৯ শ্রাবণ, ১৪২৮
কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাষ্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
-
Text size A A A
Color C C C C

সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: আজ ৯ শ্রাবণ, ১৪২৮

কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাষ্ট কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা-২০১৯ (খসড়া)

কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১৮ এর ধারা ২ এর উপধারা (ঙ) ও (চ) তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার নিম্নরূপ প্রবিধানমালা প্রণয়ন করিল, যথাঃ


প্রথম অধ্যায়: সূচনা


১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রয়োগ:
  • (১) এই প্রবিধানমালা “কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট”এর কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি প্রবিধানমালা, ২০১৯ নামে অভিহিত হইবে।
  • (২) এই প্রবিধানমালা ‘‘কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট’’ এর সকল সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি প্রযোজ্য হইবে, তবে সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হইতে প্রেষণে নিয়োজিত অথবা চুক্তি বা খন্ডকালীন ভিত্তিতে নিয়োজিত কর্মচারীগণের ক্ষেত্রে এই প্রবিধানমালার কোন কিছু প্রযোজ্য বলিয়া তাহাদের চাকরির চুক্তির শর্তে স্পষ্টভাবে উল্লিখিত না থাকিলে, ইহা প্রযোজ্য হইবে না।

২। সংজ্ঞা:

বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে এই প্রবিধানমালায়-

  • (ক) “আইন” অর্থ কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫২ নং আইন);
  • (খ) “ট্রাস্ট” অর্থ কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১৮ (৫২ নং আইন) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত “কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট” এবং উক্ত আইনের ৩(২) ধারা মোতাবেক ইহা একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা;
  • (গ) “ব্যবস্থাপনা পরিচালক” অর্থ কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১৮ এর ধারা ১৫ এর অধীন নিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক;
  • (ঘ) “কর্মচারী” অর্থ ট্রাস্টের স্থায়ী বা অস্থায়ী বা সাময়িক যে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী;
  • (ঙ) “প্রবিধি” অর্থ এই প্রবিধানমালার আওতায় বর্ণিত কোন বিধি/ধারা;
  • (চ) “প্রয়োজনীয় যোগ্যতা” অর্থ তফসিলে বর্ণিত কোন পদের জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা;
  • (ছ) “বাছাই কমিটি” অর্থ সরাসরি বা পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে সুপারিশ প্রদানের নিমিত্ত গঠিত কমিটি;
  • (জ) ‘‘কর্তৃপক্ষ’’ অর্থ নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কিংবা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
  • (ঝ) ‘‘তফসিল’’ অর্থ এই প্রবিধানমালার সহিত সংযোজিত তফসিল;
  • (ঞ) ‘‘পদ’’ অর্থ তফসিলে উল্লিখিত কোন পদ;
  • (ট) ‘‘বিজ্ঞাপন’’ অর্থ ব্যাপক প্রচারের উদ্দেশ্যে পত্রিকা বা অন্যান্য গণ-মাধ্যমে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন;
  • (ঠ) ‘‘শিক্ষানবিস’’ অর্থ কোন শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষানবিস হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কোন কর্মচারী;
    (ড) ‘‘সম্মানি’’ অর্থ মাঝে মাঝে প্রয়োজন হয় এইরূপ বিশেষ বা কষ্টসাধ্য কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ অনাবর্তক ধরণের নগদ পুরস্কার।
    (ঢ) ‘‘অসদাচরণ” অর্থ অসংগত আচরণ বা চাকরি শৃঙ্খলার জন্য হানিকর আচরণ, অথবা ট্রাস্টের কর্মচারীদের আচরণ সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধিমালার কোনো বিধানের পরিপস্থি কোন কার্য, অথবা কোন ট্রাস্টের কর্মচারীর পক্ষে শিষ্টাচার বহির্ভূত কোন আচরণ, এবং আচরণসমূহও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
    (ন) ‘‘দণ্ড’’ অর্থ এই বিধিমালার অধীনে আরোপযোগ্য কোনো দণ্ড;
    (প) ‘‘অভিযুক্ত’’ অর্থ ট্রাস্টের কোন কর্মচারী যাহার বিরুদ্ধে এই প্রবিধানমালার অধীন কোন কার্যক্রম (Action) গ্রহণ করা হইয়াছে;
    (ফ) ‘‘পলায়ন (desertion)” অর্থ বিনা অনুমতিতে চাকরি ত্যাগ অথবা ৬০ (ষাট) দিন বা তদুর্ধ্ব সময় বিনা অনুমতিতে কর্ম হইতে অনুপস্থিত থাকা অথবা কর্ম হইতে অনুমোদিত অনুপস্থিতির ধারাবাহিকতায় অনুমোদিত সময়ের অতিরিক্ত ৬০ (ষাট) দিন বা তদুর্ধ্ব সময় পুনঃঅনুমতি গ্রহণ ব্যতিরেকে অনুপস্থিত থাকা অথবা বিনা অনুমতিতে দেশ ত্যাগ এবং ৩০ (ত্রিশ) দিন বা তদুর্ধ্ব সময় বিদেশে অবস্থান করা অথবা অনুমতিসহ দেশে ত্যাগ করিবার পর অনুমোদিত সময়ের অতিরিক্ত ৬০ (ষাট) দিন বা তদুর্ধ্ব সময় অননুমোদিতভাবে বিদেশে অবস্থান করা;
    (ব) ট্রাস্টের কর্মচারীদের শৃঙ্খলা ও আপীল, আচরণ এবং নিয়মিত উপস্থিতির ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে জারিকৃত বিধিমালা, আইন ও অধ্যাদেশ প্রযোজ্য হইবে;

দ্বিতীয় অধ্যায়: নিয়োগ, পদোন্নতি ইত্যাদি


৩। বাছাই কমিটি:

সরাসরি বা পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগদানের ক্ষেত্রে, উহার নিকট সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এক বা একাধিক বাছাই কমিটি গঠন করিতে পারিবে।

৪। নিয়োগ পদ্ধতি:

১) কোন শুন্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিসমূহ অনুসরণ করা হবেঃ-

  • (ক) সরাসরি;
  • (খ) পদোন্নতি;
  • (গ) প্রেষণ;

(ক) সরাসরি নিয়োগ:

(১) চাকরি প্রার্থী কোন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের নাগরিক হইতে হইবে এবং উক্ত পদে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত ব্যক্তিকে স্বাস্থ্যগতভাবে উপযুক্ত বলিয়া প্রত্যয়নপত্র দাখিল করিতে হইবে।
(২) সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ করিতে হইবে।
(৩) নিয়োগ কমিটি এ সম্পর্কিত সরকারের বিদ্যমান বিধি-বিধানের আলোকে মৌখিক অথবা লিখিত অথবা উভয়বিধ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করিবে।
(৪) নিয়োগের পূর্বে অবশ্যই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
(৫) সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে পদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, বয়স, আবেদনপত্র গ্রহণের শেষ তারিখ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি উল্লেখপূর্বক কমপক্ষে ২ (দুই) টি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় (বাংলা এবং ইরেজি) বিজ্ঞাপন প্রকাশ এবং বিজ্ঞপ্তিটি ওয়েব সাইটেও দিতে হইবে।
(৬) প্রার্থীর বয়স প্রমাণক স্বরূপ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) বা সমমানের কোন পরীক্ষার সার্টিফিকেট অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যতীত অন্য কোন সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য হইবে না।
(৭) কোন পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে এতদ উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট কর্তৃক নিযুক্ত বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ দান করা হইবে।

(খ) পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ:

(১) এতদ উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট কর্তৃক গঠিত সংশ্লিষ্ট বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কোন পদে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ করা যাইবে।
(২) নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কমিটি কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে বাছাইকৃত প্রার্থীদের পদোন্নতি সংক্রান্ত সকল নিয়মনীতি অনুসরণপূর্বক বিশেষ করে চাকরির জ্যেষ্ঠতা, দক্ষতা এবং বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন/সার্ভিস রেকর্ড বিবেচনায় পদোন্নতি প্রদান করিবে।
(৩) কেবল জ্যেষ্ঠতার কারণে কোন কর্মচারী অধিকার হিসাবে তাহার পদোন্নতির দাবি করিতে পারিবেন না।

(গ) প্রেষণে নিয়োগ:

এই প্রবিধানের তফসিলে বর্ণিত পদ সমূহের জনবল সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টে স্বীয় পদে কাজ করিবার লক্ষ্যে প্রেষণে পদায়ন করা যাইবে (বিভিন্ন প্রক্রিয়ার নিয়োগের ক্ষেত্রে তফসিল-১ দৃষ্টব্য)। (৩) কেবল জ্যেষ্ঠতার কারণে কোন কর্মচারী অধিকার হিসাবে তাহার পদোন্নতির দাবি করিতে পারিবেন না।

৫। শিক্ষানবিস:

(১) সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারি ১ (এক) বছরের জন্য শিক্ষানবিস থাকবেন। তবে শর্ত থাকে যে, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, কোন শিক্ষানবিসির মেয়াদ অনধিক ৬ (ছয়) মাস বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
(২) সন্তোষজনকভাবে শিক্ষানবিসকাল অথবা বর্ধিত শিক্ষানবিসকাল (যদি থাকে) সমাপ্ত করার পর ট্রাস্ট উক্ত কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী করিবে।
(৩) শিক্ষানবিসকালে কোন ব্যক্তির কাজকর্ম ও আচরণ সন্তোষজনক না হইলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার কারণ দর্শানো ব্যতিরেকেই তাহাকে চাকরি হইতে অপসারণ করিতে পারিবে।


তৃতীয় অধ্যায়: চাকরির সাধারণ শর্তাবলী


৬। যোগদানের সময়:

(১) এক চাকরিস্থল হইতে অন্য চাকরিস্থলে বদলীর ক্ষেত্রে, কোন নুতন পদে যোগদানের জন্য কোন কর্মচারীকে নিম্নরূপ সময় দেওয়া হইবে, যথাঃ-

  • (ক) প্রস্তুতির জন্য ছয় দিন; এবং
  • (খ) উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত পন্থায় ভ্রমণে প্রকৃতপক্ষে অতিবাহিত সময়;
  • তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-প্রবিধান অনুযায়ী যোগদানের সময় গণনার উদ্দেশ্যে বন্ধের দিন গণনা করা হইবে না।

(২) কোন বিশেষ ক্ষেত্রে, কর্তৃপক্ষ উপ-প্রবিধান (১) এর অধীনে প্রাপ্য যোগদানের সময় হ্রাস বা বৃদ্ধি করিতে পারিবে।

(৩) কোন কর্মচারী এক কর্মস্থল হইতে অন্যত্র বদলী হইলে, অথবা কর্মস্থল পরিবর্তন করিতে হয় এমন কোন নুতন পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হইলে, তাঁহার পুরাতন কর্মস্থল, অথবা যে স্থানে তিনি নিয়োগের বা বদলীর আদেশ পাইয়াছেন, এই দুইয়ের মধ্যে যে স্থান কর্মচারীর জন্য অধিকতর সুবিধাজনক হয়, সে স্থান হইতে তাঁহার যোগদানের সময় গণনা করা হইবে।

(৪) যদি কোন কর্মচারী এক কর্মস্থল হইতে অন্য কর্মস্থলে, বা এক পদ হইতে অন্য পদে, যোগদানের অন্তবর্তীকালীন সময় ছুটি গ্রহণ করেন, তবে তাহার দায়িত্বভার হস্তান্তর করিবার পর হইতে যে সময় অতিবাহিত হয় তাহা, মেডিকেল সার্টিফিকেট পেশ করিয়া ছুটি গ্রহণ না করিলে, ছুটির অন্তর্ভুক্ত হইবে।

৭। বেতন ও ভাতা:

ট্রাস্ট কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে যেইরূপ নির্ধারিত হইবে কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা সেইরূপ হইবে।

৮। প্রারম্ভিক বেতন:

(১) কোন পদে কোন কর্মচারীকে প্রথম নিয়োগের সময়ে উক্ত পদের জন্য নির্ধারিত বেতনক্রমের সর্বনিম্ন বেতনই হইবে তাহার প্রারম্ভিক বেতন।
(২) কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৪ (ঙ) মোতাবেক স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাষ্টে ন্যস্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে যোগদানের তারিখ হইতে জ্যেষ্ঠতা ও নিয়োগকৃত স্কেলের ভিত্তিতে তাহাদের বেতন ভাতাদি নির্ধারিত হইবে।
(৩) সরকার সরকারি কর্মচারীদের বেতন সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে, সময়ে সময়ে যে নির্দেশাবলী জারি করে তদানুসারে কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের কর্মচারীদের বেতন সংরক্ষণ করা হইবে।

৯। পদোন্নতির ক্ষেত্রে বেতন:

কোন কর্মচারীর পদোন্নতির ক্ষেত্রে যে পদে তাহাকে পদোন্নতি প্রদান করা হয় সাধারণতঃ সেই পদের জন্য নির্ধারিত বেতনক্রমের সর্বনিম্ন স্তরে তাহার বেতন নির্ধারিত হইবে এবং উক্ত সর্বনিম্ন বেতন অপেক্ষা তাহার পুরাতন পদে প্রাপ্ত স্কেলের বেতন উচ্চতর হইলে, উচ্চতর পদের জন্য প্রাপ্য বেতনক্রমে তাহার পুরাতন পদের মূল বেতনের অব্যবহিত উপরের স্তরে তাহার বেতন নির্ধারিত হইবে।

১০। বেতন বর্ধন:

(১) বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা না হইলে, সাধারণতঃ প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ে বেতন বর্ধন মঞ্জুর করা হইবে।
(২) যদি বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা হয়, তাহা হইলে উহা যে মেয়াদ পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়, স্থগিতকারী কর্তৃপক্ষ তাহা উল্লে¬খ করিবে।
(৩) কোন শিক্ষানবিস সাফল্যজনকভাবে শিক্ষানবিসিকাল সমাপ্ত না করিলে এবং চাকরিতে স্থায়ী না হইলে, তিনি বেতন বর্ধনের অধিকারী হইবেন না।
(৪) যেক্ষেত্রে কোন বেতনক্রমে দক্ষতা-সীমা নির্ধারিত রহিয়াছে, সেক্ষেত্রে কোন কর্মচারীর বেতন বর্ধন স্থগিত করিবার জন্য ক্ষমতাসম্পন্ন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট মঞ্জুরী ব্যতীত তাহার দক্ষতা-সীমার অব্যবহিত উপরের বেতন বৃদ্ধি অনুমোদন করা যাইবে না। এইরূপ মঞ্জুরীর ক্ষেত্রে অনুবেদনকারী কর্মকর্তার এই মর্মে সুপারিশ থাকিতে হইবে যে, সংশি¬ষ্ট কর্মচারীর কাজকর্ম ছিল দক্ষতা-সীমা অতিক্রম করার জন্য উপযুক্ত।

১১। জ্যেষ্ঠতা:

(১) কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১৮ এর ২৪ (ঙ) ধারা মোতাবেক ‘Revitalization of Community Health Care Initiatives in Bangladesh (RCHCIB)’ প্রকল্প এবং ‘Community Based Health Care’ শীর্ষক অপারেশনাল প্ল্যানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের সকল কর্মচারীর চাকরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাস্টে ন্যস্ত হইবে এবং উক্ত প্রকল্প ও প্ল্যানের অধীন চাকরির জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী তাহাদের চাকরির জ্যেষ্ঠতা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে। দেশে প্রচলিত অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ সংস্থায় কর্মরত কর্মচারীদের ন্যায় তাহাদের স্থায়ীকরণ, বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতির সুযোগ, গ্র্যাচুইটি এবং অবসরভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রাপ্য হইবে।
(২) এই প্রবিধানের অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, কোন পদে কোন কর্মচারীর জ্যেষ্ঠতা সেই পদে তাহার যোগদানের তারিখ হইতে গণনা করা হইবে।
(৩) একই সময়ে একাধিক কর্মচারী নিয়োগপ্রাপ্ত হইলে তাহাদের মেধা তালিকা অনুসারে সংশ্লিষ্ট বাছাই কমিটি যে সুপারিশ করেন সেই সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত কর্মচারীদের পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা স্থির করিবে।
(৪) একই বৎসরে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণের মধ্যে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ জ্যেষ্ঠ হইবেন।
(৫) যেক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তিকে একই সময়ে পদোন্নতি দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে যে পদ হইতে পদোন্নতি দেওয়া হইয়াছে সেই পদের জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তাহাদের পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হইবে।
(৬) ট্রাস্ট ইহার কর্মচারীদের গ্রেডওয়ারী জ্যেষ্ঠতার তালিকা সংরক্ষণ করিবে এবং সময়ে সময়ে তাহাদের অবগতির জন্য প্রকাশ করিবে।
(৭) কোন কর্মচারী জ্যেষ্ঠতার বিষয়ে সংক্ষুব্ধ হইলে ট্রাস্টি বোর্ডের নিকট আপিল করিতে পারিবে।

১২। পদোন্নতি:

(১) এই প্রবিধানমালার বিধান এবং তফসিলের বিধানাবলী সাপেক্ষে, কোন কর্মচারীকে পরবর্তী উচ্চতর পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা যাইতে পারে;
(২) পদোন্নতি প্রদানের ক্ষেত্রে নিধারিত কর্মকর্তা/কর্মচারীগণের জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রণয়ন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে;


চতুর্থ অধ্যায়: ছুটি, ইত্যাদি


১৩। বিভিন্ন প্রকারের ছুটি:

(১) কোন কর্মচারী নিম্নবর্ণিত যে কোন ধরণের ছুটি পাইবেন, যথাঃ

  • (ক) পূর্ণ বেতনে ছুটি;
  • (খ) অর্ধ গড় বেতনে ছুটি;
  • (গ) বিনা বেতনে অসাধারণ ছুটি;
  • (ঘ) বিশেষ অক্ষমতাজনিত ছুটি;
  • (ঙ) সঙ্গরোধ ছুটি;
  • (চ) মাতৃত্বকালীন ছুটি
    (ছ) অধ্যয়ন ছুটি;
    (জ) নৈমিত্তিক ছুটি এবং
    (ঝ) অবসর পরবর্তী ছুটি;
    (ঞ) শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটি;
    (ট) বহিঃবাংলাদেশ ছুটি;

(২) উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কোন কর্মচারীকে বিশেষ অক্ষমতাজনিত ছুটি ও অধ্যয়ন ছুটি ব্যতীত অন্যবিধ ছুটি মঞ্জুর করিতে পারিবে এবং ইহা সাধারণ ছুটির দিনের সহিত সংযুক্ত করিয়াও প্রদান করা যাইতে পারে।
(৩) ট্রাস্টের পূর্বানুমোদন লইয়া উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বিশেষ অক্ষমতাজনিত ছুটি ও অধ্যয়ন ছুটি মঞ্জুর করিতে পারিবে।

১৪। পূর্ণ বেতনে ছুটি:

(১) প্রত্যেক কর্মচারী তৎকর্তৃক দায়িত্ব পালনে অতিবাহিত কার্যদিবসের ১/১১ হারে পূর্ণ বেতনে ছুটি অর্জন করিবেন এবং পূর্ণ বেতনে প্রাপ্য এককালীন ছুটির পরিমাণ ৪ (চার) মাসের অধিক হইবে না।
(২) উপ-প্রবিধান (১) এর অধীন অর্জিত ছুটির পরিমাণ ৪ (চার) মাসের অধিক হইলে, তাহা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ছুটির হিসাব একটি পৃথক খাতে জমা দেখানো হইবে এবং স্বাস্থ্য সনদ উপস্থাপন সাপেক্ষে অথবা বাংলাদেশের বাহিরে ধর্মীয় সফর, অধ্যয়ন বা অবকাশ ও চিত্তবিনোদনের জন্য উক্ত জমাকৃত ছুটি হইতে পূর্ণ বেতনে ছুটি মঞ্জুর করা যাইবে।

১৫। অর্ধ বেতনে ছুটি:

(১) প্রত্যেক কর্মচারী তৎকর্তৃক দায়িত্ব পালনে অতিবাহিত কার্যদিবসের ১/১২ হারে অর্ধ-বেতনে ছুটি অর্জন করিবেন এবং এইরূপ ছুটি জমা হওয়ার কোন সীমা থাকবে না।
(২) অর্ধ বেতনের প্রতি ২ (দুই) দিনের ছুটিকে কোন চিকিৎসা কর্মকর্তা বা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সনদ দাখিল সাপেক্ষে, ১ (এক) দিনের পূর্ণ বেতনে ছুটিতে রূপান্তরিত করিয়া কোন কর্মচারীকে সর্বোচ্চ ১২ (বার) মাস পর্যন্ত পূর্ণ বেতনে ছুটি মঞ্জুর করা যাইবে।

১৬। প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি:

(১) স্বাস্থ্য সনদ দ্বারা সমর্থিত হইলে, কোন কর্মচারীকে তাহার সমগ্র চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ ১২ (বারো) মাস পর্যন্ত এবং অন্য কোন কারণে হইলে, ৩ (তিন) মাস পর্যন্ত অর্ধ বেতনে প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি মঞ্জুর করা যাইবে।
(২) কোন কর্মচারী তাহার ছুটি পাওনা হওয়ার পূর্বেই প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি ভোগ করিয়া ফিরিয়া আসিলে, তিনি পূর্বেই যে ছুটি ভোগ করিয়াছেন পুনরায় সেই ছুটি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত নুতনভাবে গড় অর্ধ বেতনে কোন ছুটি পাইবার অধিকারী হইবে না।

১৭। অসাধারণ ছুটি:

(১) যখন কোন কর্মচারীর অন্য কোন ছুটি পাওনা না থাকে বা অন্য প্রকার কোন ছুটি পাওনা থাকে অথচ সংশ্লিষ্ট কর্মচারী লিখিতভাবে অসাধারণ ছুটির জন্য আবেদন করেন তখন তাহাকে অসাধারণ ছুটি মঞ্জুর করা যাইবে।
(২) অসাধারণ ছুটির মেয়াদ একাধারে ৩ (তিন) মাসের অধিক হইবে না, তবে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে উক্ত ছুটির মেয়াদ বর্ধিত করা যাইতে পারে, যথাঃ-

(ক) যে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী এই শর্তে বিদেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণের অনুমতিপ্রাপ্ত হন যে, উক্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরে ৫ (পাঁচ) বছরের জন্য তিনি চাকরি করিবেন;
(খ) যে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী চিকিৎসাধীন থাকেন; অথবা
(গ) যে ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, উক্ত কর্মচারী তাহার নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে কর্তব্যে যোগদান করিতে অসমর্থ।

(৩) উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কোন কর্মচারীর বিনা ছুটিতে অনুপস্থিতির সময়কে ভূতাপেক্ষ কার্যকরসহ অসাধারণ ছুটিতে রূপান্তরিত করিতে পারিবে।

১৮। বিশেষ অক্ষমতাজনিত ছুটি:

(১) কোন কর্মচারী তাহার যথাযথ কর্তব্য পালনকালে বা উহা পালনের পরিণতিতে অথবা তাহার পদে অধিষ্ঠিত থাকিবার কারণে আঘাতপ্রাপ্ত হইয়া দায়িত্বপালনে অক্ষম হইলে, ট্রাস্ট তাহাকে বিশেষ অক্ষমতাজনিত ছুটি মঞ্জুর করিতে পারিবে।
(২) যে অক্ষমতার কারণে বিশেষ অক্ষমতাজনিত ছুটি চাওয়া হয় সেই অক্ষমতা ৩ (তিন) মাসের মধ্যে প্রকাশ না পাইলে এবং যে ব্যক্তি অক্ষম হন, সেই ব্যক্তি অনুরূপ অক্ষমতার কারণে অবিলম্বে উপযু্ক্ত কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করিলে, বিশেষ অক্ষমতাজনিত ছুটি মঞ্জুর করা হইবে না।
(৩) যে মেয়াদের জন্য বিশেষ অক্ষমতাজনিত ছুটি প্রয়োজনীয় বলিয়া চিকিৎসা পরিষদ প্রত্যয়ন করিবে সেই মেয়াদের জন্য উক্ত ছুটি মঞ্জুর করা হইবে এবং চিকিৎসা পরিষদের প্রত্যয়ন ব্যতিরেকে তাহা বর্ধিত করা হইবে না; এবং এইরূপ ছুটি কোনক্রমেই ২৪ (চব্বিশ) মাসের অধিক হইবে না।
(৪) বিশেষ অক্ষমতাজনিত ছুটি অন্য যে কোন ছুটির সহিত সংযু্ক্ত করা যাইবে।
(৫) যদি একই ধরণের অবস্থা পরবর্তীকালে কোন সময় অক্ষমতা বৃদ্ধি পায় বা উহার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহা হইলে একধিকবার বিশেষ অক্ষমতাজনিত ছুটি মঞ্জুর করা যাইবে, তবে অনুরূপ ছুটির পরিমাণ ২৪ (চব্বিশ) মাসের অধিক হইবে না এবং তাহা যে কোন একটি অক্ষমতার কারণে মঞ্জুর করা যাইবে।
(৬) যে ক্ষেত্রে কর্মকর্তা শুধু আনুতোষিক এবং অবসর ভাতা প্রাপ্য হয়, সে ক্ষেত্রে অবসর ভাতার বিষয়ে চাকরি হিসাব করিবার সময় বিশেষ অক্ষমতাজনিত কর্তব্য পালনের সময় হিসাবে গণনা করা হইবে এবং ইহা ছুটির হিসাব হইতে বিয়োজন করা হইবে না।
(৭) বিশেষ অক্ষমতাজনিত ছুটিকালীন বেতন হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-

(ক) উপ-প্রবিধান (৫) এর অধীনে মঞ্জুরীকৃত ছুটির মেয়াদসহ যে কোন মেয়াদের ছুটির প্রথম ৪ (চার) মাসের জন্য পূর্ণ বেতন; এবং
(খ) এইরূপ কোন ছুটির অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য অর্ধ বেতন।

(৮) উপ-প্রবিধান (১) হইতে (৭) এ উল্লিখিত বিধানসমূহের প্রযোজ্যতা এমন কর্মচারীর ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত করা যাইতে পারে, যিনি, তাহার যথাযথ কর্তব্য পালনকালে, বা উহা পালনের পরিণতিতে, অথবা তাহার পদে অধিষ্ঠিত থাকিবার কারণে, দুর্ঘটনাবশত আঘাতপ্রাপ্ত হইয়াছেন অথবা যিনি নির্দিষ্ট কোন কর্তব্য পালনকালে তাহার পদের স্বাভাবিক ঝুঁকি বহির্ভূত অসুস্থতা বা জখম বাড়াইয়া তোলার সম্ভাবনা থাকে, এইরূপ অসুস্থতা বা জখমের দরুন অক্ষম হইয়াছেন।

১৯। সংগনিরোধ ছুটি:

(১) কোন কর্মচারীর পরিবারে বা গৃহে সংক্রামক ব্যাধি থাকার কারণে যদি আদেশ দ্বারা তাহাকে অফিসে উপস্থিত না হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় তবে যে সময়ের জন্য উক্তরূপ নির্দেশ কার্যকর থাকে সেই সময়কাল হইবে সংগনিরোধ ছুটি।
(২) কর্তৃপক্ষ কোন চিকিৎসক বা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তার সার্র্টিফিকেটের ভিত্তিতে অনুর্ধ্ব ২১ (একুশ) দিন অথবা অস্বাভাবিক অবস্থায় অনূর্ধ্ব ৩০ দিনের জন্য সংগনিরোধ ছুটি মঞ্জুর করিতে পারিবে।
(৩) সংগনিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় উপ-প্রবিধান (২) এ উল্লি¬খিত মেয়াদের অতিরিক্ত ছুটি প্রয়োজন হইলে, উহা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুসারে এই প্রবিধানমালার অধীন অন্য কোন প্রকার ছুটি হিসেবে গণ্য হইবে।
(৪) এই প্রবিধানমালার বিধান অনুযায়ী প্রাপ্য সর্বাধিক ছুটি সাপেক্ষে, প্রয়োজন হইলে অন্যবিধ ছুটির সহিত সংগনিরোধ ছুটি মঞ্জুর করা যাইবে।
(৫) সংগনিরোধ ছুটিতে থাকাকালে কোন কর্মচারীকে তাহার দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত বলিয়া গণ্য করা হইবে না।

২০। মাতৃত্বকালীন ছুটি:

(১) মহিলা কর্মচারী পূর্ণ বেতনে সর্বাধিক ০৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত মাতৃত্বকালীন ছুটি পাইবেন এবং উহা তাহার পাওনা ছুটির হিসাব হইতে বাদ দেওয়া যাইবে না এবং ছুটিতে যাওয়ার প্রাক্কালে উত্তোলিত বেতনের হারে পূর্ণ বেতন পাইবেন।
(২) কোন নিবন্ধিত চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কর্তৃক মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুরীর অনুরোধ সমর্থিত হইলে, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের বিবেচনা মতে কর্মচারীর প্রাপ্য অন্য যে কোন ছুটির সহিত একত্রে বা সম্প্রসারিত করিয়া উহা মঞ্জুর করা যাইবে।
(৩) ট্রাস্টে চাকরি জীবনে কোন মহিলা কর্মচারীকে ২ (দুই) বারের অধিক মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর করা যাইবে না।

২১। অবসর উত্তর ছুটি:

(১) কোন কর্মচারীর ছুটির প্রাপ্যতা সাপেক্ষে, তাহার সর্বশেষ বেতনের ১ (এক) বৎসর পূর্ণ গড় বেতনে অবসর উত্তর ছুটি পাইবেন।
(২) কোন কর্মচারী তাহার অবসর গ্রহণের তারিখের অন্যূন এক মাস পূর্বে অবসর পরবর্তী ছুটির জন্য আবেদন করিবেন এবং অবসর গ্রহণের তারিখে অবসর পরবর্তী ছুটিতে যাইবেন।
(৩) কোন কর্মচারী তাহার অবসর গ্রহণের তারিখের অন্যূন এক মাস পূর্বে অবসর পরবর্তী ছুটির জন্য আবেদন না করিলে তাহার পাওনা ছুটি অবসর গ্রহণের তারিখের পর তামাদি হইয়া যাইবে।
(৪) উপ-প্রবিধান (১) এর অধীন অবসর উত্তর ছুটি মঞ্জুরীর পর কোন কর্মচারীর অর্জিত ছুটি পাওনা থাকিলে তিনি অর্জিত ছুটির অনধিক ১৮ (আঠার) মাস পর্যন্ত নগদায়ন গ্রহণ করিতে পারিবেন।

২২। অধ্যয়ন ছুটি:

(১) ট্রাস্টে চাকরির জন্য সহায়ক হইতে পারে এইরূপ বিষয়াদি অধ্যয়ন অথবা বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ গ্রহণের জন্য কোন কর্মচারীকে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ অর্ধ বেতনে অনধিক ১২ (বার) মাস অধ্যয়নের জন্য ছুটি মঞ্জুর করিতে পারিবে এবং এইরূপ ছুটি তাহার ছুটির হিসাব হইতে বাদ দেওয়া হইবে না।
(২) যে ক্ষেত্রে কোন কর্মচারীকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোন অধ্যয়ন ছুটি মঞ্জুর করা হয় এবং তিনি পরবর্তীকালে দেখিতে পান যে মঞ্জুরীকৃত ছুটির মেয়াদ তার শিক্ষা কোর্স ও পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনী মেয়াদ অপেক্ষা কম, সে ক্ষেত্রে সময়ের স্বল্পতা পূরণকল্পে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ তাহাকে অনধিক ১ (এক) বৎসরের জন্য উক্ত অধ্যয়ন ছুটির মেয়াদ বর্ধিত করিতে পারিবে।
(৩) পূর্ণ বেতনে বা অর্ধ বেতনে ছুটি বা বিনা বেতনে অসাধারণ ছুটির সহিত একত্রে অধ্যয়ন ছুটি মঞ্জুর করা যাইবে, তবে এইরূপ মঞ্জুরকৃত ছুটি কোনক্রমেই একত্রে মোট ২ (দুই) বৎসরের অধিক হইবে না।

২৩। নৈমিত্তিক ছুটি:

সরকার, সময় সময় উহার কর্মচারীদের জন্য প্রতি পঞ্জিকা বৎসরে মোট যতদিন নৈমিত্তিক ছুটি নির্ধারণ করিবে ট্রাস্টের কর্মচারীগণও মোট ততদিন নৈমিত্তিক ছুটি পাইবেন।

২৪। সাধারণ ও সরকারি ছুটি:

(১) ট্রাস্টের কর্মচারীগণ সাপ্তাহিক ছুটি এবং সরকারি গেজেটের মাধ্যমে যে সমস্ত দিনকে সাধারণ ছুটি হিসাবে ঘোষণা করা হয়;
(২) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি এবং
(৩) কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করিতে পারিবেন। একজন কর্মচারীকে নিজ ধর্ম অনুযায়ী কর্মচারীগণ ০৩ (তিন) দিনের ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করিতে পারিবেন, তবে বৎসরের প্রারম্ভেই তাহা অনুমোদন করাইতে হইবে।

২৫। শ্রান্তি বিনোদন ছুটি:

অন্যান্য সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত সংস্থার ন্যায় ট্রাস্টের কর্মচারীগণ শ্রান্তি ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে প্রতি ০৩ (তিন) বৎসরে ১৫ দিনের গড় বেতনে ছুটিতে গমন করিলে ১ (এক) মাসের মূল বেতনের সমপরিমান শ্রান্তি বিনোদন ভাতা প্রাপ্য হইবেন। এই বিনোদন ভাতা ছুটিকালীন বেতনের অতিরিক্ত হিসাবে প্রাপ্য হইবেন।

২৬। বহিঃবাংলাদেশ ছুটি:

ট্রাস্টের কর্মচারীগণ বর্হিবাংলাদেশে ছুটি ভোগ সম্পর্কিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালযের প্রজ্ঞাপন নং-সম (বিধি-৪) ছুটি-৭/৮৭-৫২ (২০০), তারিখঃ ৮ সেপ্টম্বর ১৯৮৭ অথবা সময়ে সময়ে কাজীকৃত বিধান মোতাবেক দাপ্তরিক কাজে বা প্রশিক্ষণের জন্য বহিঃবাংলাদেশ ছুটি ভোগ করিতে পারিবেন। ব্যক্তিগত ভ্রমণের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট হতে অর্জিত ছুটি অনুমোদন সাপেক্ষে বহিঃবাংলাদেশ ছুটি প্রাপ্য হইবেন।

২৭। ছুটির পদ্ধতি:

(১) প্রত্যেক কর্মচারীর ছুটির হিসাব উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত নিয়ম ও পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হইবে।
(২) ছুটির জন্য সকল আবেদন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে হইতে হইবে।
(৩) আবেদনকারী কর্মচারী যে কর্মকর্তার অধীনে কর্মরত থাকিবেন তাহার সুপারিশক্রমে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ছুটি মঞ্জুর করিতে পারেন।
(৪) বিশেষ পরিস্থিতিতে, কোন কর্মকর্তা যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, তাহার অধীনে কর্মরত কোন কর্মচারীর ছুটি পাওনা রহিয়াছে, তবে তিনি উপ-প্রবিধান (২) এর বিধান এবং আনুষ্ঠানিক মঞ্জুরী আদেশ সাপেক্ষে তাহাকে অনূর্ধ ১৫ (পনের) দিনের ছুটিতে যাইবার অনুমতি দিতে পারিবেন।

২৮। ছুটিকালীন বেতন:

(১) কোন কর্মচারী পূর্ণ বেতনে ছুটিতে থাকাকালে, উক্ত ছুটি আরম্ভের পূর্বে তিনি সর্বশেষ যে বেতন পাইয়াছেন সেই বেতনের সমান হারে ছুটিকালীন বেতন পাইবার অধিকারী হইবেন।
(২) কোন কর্মচারী অর্ধ বেতনে ছুটিতে থাকাকালে উক্ত ছুটি আরম্ভের পূর্বে তিন সর্বশেষ যে বেতন পাইয়াছেন, সেই বেতনের অর্ধ হারে ছুটিকালীন বেতন পাইবার অধিকারী হইবেন।

২৯। ছুটি হইতে প্রত্যাবর্তন করানো:

ছুটি ভোগরত কোন কর্মচারীকে ছুটির মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে দায়িত্ব পালনের জন্য তলব করা যাইবে এবং তাহাকে অনুরূপভাবে তলব করা হইলে, তিনি যে কর্মস্থলে ফিরিয়া আসিবার জন্য নির্দেশিত হইয়াছেন, উহার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার তারিখ হইতে তাহাকে কর্মরত বলিয়া গণ্য করা হইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে ভ্রমণের জন্য তিনি ভ্রমণ ভাতা পাইবার অধিকারী হইবেন।

৩০। ছুটির নগদায়ন:

(১) যে কর্মচারী অবসর ভাতা বা ভবিষ্যত তহবিলের সুবিধা গ্রহণের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন নাই, তিনি তাহার সম্পূর্ণ চাকরিকালের জন্য সর্বাধিক ১২ (বার) মাস পর্যন্ত, প্রতি বৎসরে প্রত্যাখ্যাত ছুটির শতকরা পঞ্চাশ ভাগ (৫০%) নগদ টাকায় রূপান্তরিত করিবার জন্য অনুমতি পাইতে পারেন।
(২) সর্বশেষ মূল বেতনের ভিত্তিতে উপ-প্রবিধান (১) এ উল্লিখিত ছুটি নগদ টাকায় রূপান্তরিত করা যাইবে।


পঞ্চম অধ্যায়: ভ্রমণ ভাতা, সম্মানি, দায়িত্ব ভাতা, ইত্যাদি


৩১। ভ্রমণ ভাতা ইত্যাদি:

ট্রাস্টের কোন কর্মচারী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা বহিঃবাংলাদেশে দায়িত্ব পালনার্থে ভ্রমণকালে, বা বদলী উপলক্ষ্যে ভ্রমণকালে, সরকার কর্তৃক উহার কর্মচারীদের জন্য সময়ে সময়ে নির্ধারিত হার ও শর্তাবলী অনুযায়ী, ভ্রমণ ভাতা ও দৈনিক ভাতা পাইবার অধিকারী হইবেন।

৩২। সম্মানি, ইত্যাদি:

(১) ট্রাস্ট কোন কর্মচারীকে, সাময়িক প্রকৃতির কোন কর্ম-সম্পাদনের জন্য অথবা বিশেষ মেধার প্রয়োজন হয় এমন নব প্রবর্তনমূলক বা গবেষণা ও উন্নয়নমূলক এবং শ্রমসাপেক্ষ কোন কর্ম-সম্পাদনের জন্য সম্মানি অর্থ বা নগদ অর্থ বা পুরস্কার প্রদানের যৌক্তিকতা থাকিলে সরকারের প্রচলিত বিধিবিধান প্রতিপালনের শর্তে উক্ত সম্মানি বা পুরস্কার প্রদান করিতে পারিবেন।
(২) উপ-প্রবিধান (১) এর অধীনে কোন সম্মানি বা নগদ অর্থ পুরস্কার মঞ্জুর করা হইবে না, যদি এতদুদ্দেশ্যে গঠিত কমিটি কর্তৃক তাহা সুপারিশ না করা হয়।

৩৩। দায়িত্ব ভাতা/কর্মভারভাতা:

কোন কর্মচারী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আদেশক্রমে অন্যুন ২১ দিনের জন্য তাহার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সমমানের বা উর্দ্ধতন কোন পদের দায়িত্ব পালন করিলে সরকারি দায়িত্ব ভাতা সংক্রান্ত বিধি বিধান অনুসরণক্রমে তাহাকে দায়িত্ব ভাতা প্রদান করা যাইবে।

৩৪। উৎসব ভাতা:

সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে সময়ে সময়ে জারিকৃত সরকারি আদেশের সাথে সামঞ্জস্য রাখিয়া ট্রাস্টের কর্মচারীগণকে উৎসব ভাতা প্রদান করা যাইতে পারে।

৩৫। বিভিন্ন ভাতার হার ও প্রাপ্যতা নির্ধারণ:

(১) অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ/সভা/সেমিনার/কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয় নির্বাহের ভাতার হার ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও সরকারের অনুমোদনক্রমে নির্ধারিত হইবে।


ষষ্ঠ অধ্যায়: চাকরির বৃত্তান্ত


৩৬। চাকরির বৃত্তান্ত:

(১) পৃথক পৃথকভাবে প্রত্যেক কর্মচারীর জন্য চাকরির বৃত্তান্ত সংরক্ষণ করা হইবে এবং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দিষ্ট চাকরি বহি সংরক্ষিত থাকিবে।
(২) কোন কর্মচারী কর্তব্যরত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে প্রতি বৎসরে একবার তাঁহার চাকরী বহি দেখিতে পারিবেন এবং এইরূপে দেখিবার পর উহাতে লিপিবদ্ধ বিষয়াদি সঠিক ও সম্পূর্ণ বলিয়া উল্লে¬খপূর্বক তারিখসহ স্বাক্ষর করিবেন।
(৩) যদি কোন কর্মচারী তাহার চাকরি বহি পরিদর্শনকালে উহাতে কোন ভুল বা বিলুপ্তি দেখিতে পান, তাহা হইলে তিনি উহা সংশোধনের জন্য পনের দিনের মধ্যে বিষয়টি লিখিতভাবে কর্তব্যরত কর্মকর্তার দৃষ্টিগোচর করিবেন এবং উক্ত কর্মকর্তা বিধি সম্মতভাবে চাকরি বহিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করিয়া বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে লিখিতভাবে অবহিত করিবেন।

৩৭। বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন:

(১) কর্তৃপক্ষ কর্মচারীগণ কর্তৃক সম্পাদিত কার্য এবং তাহাদের আচরণ সম্পর্কিত বার্ষিক অনুবেদন প্রণয়ন পদ্ধতি প্রস্তুত করিবেন এবং উক্ত অনুবেদন বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন নামে অভিহিত হইবে; এবং বোর্ড কোন কর্মচারীর বিশেষ গোপনীয় অনুবেদন প্রয়োজন হইলে তাহাও কর্তৃপক্ষের নিকট চাহিতে পারিবেন।
(২) কোন কর্মচারী তাহার গোপনীয় অনুবেদন দেখিতে পারিবেন না কিন্তু উহাতে কোন বিরূপ মন্তব্য থাকিলে, উহার কৈফিয়ৎ প্রদানের কিংবা তাহার নিজের সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার জন্য তাঁহাকে তৎসম্পর্কে অবহিত করিতে হইবে।


সপ্তম অধ্যায়: আচরণ, শৃংখলা ও দন্ড ইত্যাদি


৩৮। আচরণ ও শৃংখলা:

(১) প্রত্যেক কর্মচারী-

(ক) এই প্রবিধানমালা মানিয়া চলিবেন;
(খ) যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের এখতিয়ার, তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে আপাততঃ কর্মে নিয়োজিত রহিয়াছেন তাহার বা তাহাদের দ্বারা সময়ে সময়ে প্রদত্ত সকল আদেশ ও নির্দেশ পালন এবং মানিয়া চলিবেন; এবং
(গ) সততা, নিষ্ঠা ও অধ্যাবসায়ের সহিত কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের চাকরি করিবেন।

(২) কোন কর্মচারী-

(ক) কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করিবেন না, উহার সাহায্যার্থে চাঁদা দান বা অন্য কোন উপায়ে উহার সহায়তা করিবেন না এবং ট্রাস্টের স্বার্থের পরিপন্থী কোন কার্য-কলাপে নিজেকে জড়িত করিবেন না;
(খ) তাহার অব্যবহিত উর্ধ্বতন কর্মকর্তার পূর্ব অনুমতি ব্যতিরেকে দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকিবেন না কিংবা চাকরিস্থল ত্যাগ করিবেন না;
(গ) ট্রাস্টের সহিত লেনদেন রহিয়াছে কিংবা লেনদেন থাকার সম্ভাবনা রহিয়াছে এমন ব্যক্তিদের নিকট হইতে কোন দান গ্রহণ করিবেন না;
(ঘ) কোন বীমা কোম্পানীর এজেণ্ট হিসাবে কাজ করিবেন না;
(ঙ) কোন ব্যবসায়ের কাজে নিয়োজিত হইবেন না কিংবা নিজে বা অন্য কোন ব্যক্তির প্রতিনিধি হিসাবে অনুরূপ কোন ব্যবসায়ের পরিচালনা এবং কোন ফটকা কারবারীর সাথে জড়িত হইতে পারিবেন না।
(চ) উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমোদন ব্যতিরেকে, বাহিরের কোন অবৈতনিক বা বৈতনিক চাকরি গ্রহণ করিবেন না; এবং
(ছ) সরকার বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত অন্য কোন খন্ডকালীন কার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করিবেন না।
(৩) যদি কোন কর্মচারী তাহার চাকরি বহি পরিদর্শনকালে উহাতে কোন ভুল বা বিলুপ্তি দেখিতে পান, তাহা হইলে তিনি উহা সংশোধনের জন্য পনের দিনের মধ্যে বিষয়টি লিখিতভাবে কর্তব্যরত কর্মকর্তার দৃষ্টিগোচর করিবেন এবং উক্ত কর্মকর্তা বিধি সম্মতভাবে চাকরি বহিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করিয়া বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে লিখিতভাবে অবহিত করিবেন।

(৩) কোন কর্মচারী ট্রাস্টের নিকট বা উহার কোন সদস্যের নিকট কোন ব্যক্তিগত নিবেদন পেশ করিতে পারিবেন না; কোন নিবেদন থাকিলে, তাহা কর্মচারীর অব্যবহিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে পেশ করিতে হইবে।
(৪) কোন কর্মচারী তাহার চাকরি সম্পর্কিত কোন দাবীর সমর্থনে ট্রাস্ট বা উহার কোন কর্মকর্তার উপর রাজনৈতিক বা বাহিরের কোন প্রভাব বিস্তার করিবেন না অথবা বিস্তারের চেষ্টা করিবেন না।
(৫) কোন কর্মচারী তাহার কোন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য সরাসরি কোন মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য বা অন্য কোন বেসরকারি/সরকারি ব্যক্তির শরণাপন্ন হইবেন না।
(৬) কোন কর্মচারী ট্রাস্টের বিষয়াদি সম্পর্কে সংবাদ পত্র বা অন্য কোন গণমাধ্যম অথবা অন্য কোন সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহিত কোন যোগাযোগ স্থাপন করিতে পারিবেন না।
(৭) প্রত্যেক কর্মচারী অভ্যাসগতভাবে ঋণগ্রস্থতা পরিহার করিবেন।
(৮) এই প্রবিধানমালায় বর্ণিত বিধান সাপেক্ষে, কোন কর্মচারী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে, নিকট আত্মীয় বা ব্যক্তিগত বন্ধু ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হইতে এমন কোন উপহার গ্রহণ করিতে বা তাহার পরিবারের কোন সদস্যকে বা তাহার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তিকে গ্রহণের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন না, যাহা গ্রহণ কর্তব্য পালনে উপহার দাতার নিকট তাহাকে যে কোন প্রকার বাধ্যবাধকতায় আবদ্ধ করে, তবে যদি অনুচিত মনোকষ্ট প্রদান ব্যতিরেকে উপহারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান না করা যায়, তাহা হইলে, উপহার গ্রহণপূর্বক নিষ্পত্তির সিদ্ধান্তের জন্য ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের’ নিকট হস্তান্তর করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, ধর্মীয় বা সামাজিক প্রথা অনুযায়ী যে সকল বিবাহ অনুষ্ঠান, বার্ষিকী, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপহার গ্রহণের রীতি প্রচলিত, সেই সকল অনুষ্ঠানে দাপ্তরিক লেনদেনের সহিত সম্পৃক্ত নহে, এমন নিকট আত্মীয় বা ব্যক্তিগত বন্ধুর নিকট হইতে উপহার গ্রহণ করা যাইবে এবং এইক্ষেত্রে, উপহারের মূল্য সরকার কর্তৃক সরকারি কর্মচারীদের জন্য সময়ে সময়ে জারিকৃত নির্ধারিত আর্থিক সীমা প্রযোজ্য হইবে।
(৯) কোন কর্মচারী তাহার এখতিয়ারাধীন এলাকার কোন ব্যক্তি বা শিল্প প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোন সংস্থার ঘন ঘন অমিতব্যয়ী দাওয়াত বা ঘন ঘন দাওয়াত পরিহার করিবেন।

৩৯। যৌতুক প্রদান ও গ্রহণ:

–কোন কর্মচারী-

(ক) যৌতুক প্রদান করিতে বা গ্রহণ করিতে বা যৌতুক প্রদানে বা গ্রহণে প্ররোচিত করিতে পারিবেন না; অথবা
(খ) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, কন্যা বা বরের পিতা-মাতা বা অভিভাবকের নিকট যৌতুক দাবি করিতে পারিবেন না।

৪০। মূল্যবান সামাগ্রী ও স্থাবর সম্পতি অর্জন ও হস্তান্তর:

(১) প্রকৃত ব্যবসায়ীর সহিত সরল বিশ্বাসে লেনদেনের ক্ষেত্র ব্যতিরেকে, একজন কর্মচারী তাহার কর্মস্থল, জেলা বা যেই স্থানীয় এলাকার জন্য তিনি নিয়োজিত, ঐ এলাকায় বসবাসকারী, স্থাবর সম্পত্তির অধিকারী অথবা ব্যবসা বাণিজ্যরত কোন ব্যক্তির নিকট সরকার কর্তৃক সরকারী কর্মচারীদের জন্য সময়ে সময়ে জারিকৃত নির্ধারিত আর্থিক সীমার অধিক মূল্যের কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয়, বিক্রয় বা অন্য কোন পন্থায় হস্তান্তর করিতে চাহিলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ এর নিকট নিজের এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করিবেন। সংশ্লিষ্ট কর্মচারী নিজেই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হইলে কর্তৃপক্ষের নিকট অভিপ্রায় জানাইবেন। উক্ত অভিপ্রায়ের বক্তব্যে লেনদেনের কারণ ও স্থিরকৃত মূল্যসহ লেনদেনের সম্পূর্ণ বিবরণ এবং ক্রয় বিক্রয় ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে হস্তান্তর করা হইলে, উক্ত হস্তান্তরের পদ্ধতি উল্লেখসহ লেনদেনের সম্পূর্ণ বিবরণ থাকিবে। অতঃপর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ অনুসারে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী কাজ করিবেন।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী তাহার অধস্তন কর্মচারীর সহিত সকল প্রকার লেনদেনের ক্ষেত্রে পরবর্তী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিবেন।
(২) উপ-প্রবিধান (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন কর্মচারী বা তাহার পরিবারের কোন সদস্য পূর্বানুমোদন ব্যতীত-

(ক) ক্রয়, বিক্রয়, দান, উইল বা অন্যভাবে বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন স্থাবর সম্পত্তি অর্জন বা হস্তান্তর করিতে পারিবেন না; এবং
(খ) কোন বিদেশি, বিদেশি সরকার বা বিদেশি সংস্থার সহিত কোন প্রকার ব্যবসায়িক লেনদেন করিতে পারিবেন না।

৪১। ইমারত, এপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট ইত্যাদি নির্মান অথবা ক্রয়:

কোন কর্মচারী নির্মাণ বা ক্রয়ের প্রয়োজনীয় অর্থের উৎসের উল্লেখপূর্বক আবেদনের মাধ্যমে এই উদ্দেশ্যে ট্রাস্টের পূর্বানুমোদন গ্রহণ না করিয়া ব্যবসায়িক বা আবাসিক উদ্দেশ্যে নিজে বা কোন ডেভেলপার দ্বারা কোন ইমারত, এপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট নির্মাণ বা ক্রয় করিতে পারিবেন না।

৪২। সম্পত্তি ঘোষণা:

(১) প্রত্যেক কর্মচারীকে চাকরিতে প্রবেশের সময়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাহার অথবা তাহার পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন বা দখলে থাকা শেষ সার্টিফিকেট, সিকিউরিটি, বীমা পলিসি এবং সরকার কর্তৃক সরকারি কর্মচারীদের জন্য সময়ে সময়ে জারিকৃত নির্ধারিত আর্থিক সীমা বা ততোধিক মূল্যের অলংকারাদিসহ সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কে ট্রাস্টের নিকট ঘোষণা প্রদান করিতে হইবে এবং উক্ত ঘোষণায় নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির উল্লেখ থকিবে, যথা-

(ক) যে জেলায় সম্পত্তি অবস্থিত উক্ত জেলার নাম;
(খ) সরকার কর্তৃক সরকারি কর্মচারীদের জন্য সময়ে সময়ে জারিকৃত নির্ধারিত আর্থিক সীমার অধিক মূল্যের প্রত্যেক প্রকারের অলংকারাদি পৃথকভাবে প্রদর্শন করিতে হইবে; এবং
(গ) সরকারের সাধারণ বা বিশেষ আদেশের মাধ্যমে আরো যেই সকল তথ্য চাওয়া হয়।

(২) প্রত্যেক কর্মচারীকে প্রতি ৫ (পাঁচ) বৎসর অন্তর ডিসেম্বর মাসে উপ-প্রবিধান (১) এর অধীনে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, প্রদত্ত ঘোষণায় অথবা বিগত ৫ (পাঁচ) বৎসরের হিসাব বিবরণীতে প্রদর্শিত সম্পত্তি হ্রাস-বৃদ্ধির হিসাব বিবরণী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ট্রাস্টের নিকট দাখিল করিতে হইবে।

৪৩। রাজনীতি এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ:

(১) কোন কর্মচারী কোন রাজনৈতিক দলের কোন অঙ্গ সংগঠনের সদস্য হইতে অথবা অন্য কোনভাবে উহার সহিত যুক্ত হইতে পারিবেন না, অথবা বাংলাদেশে বা বিদেশে কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করিতে বা কোন প্রকারেই সহায়তা করিতে পারিবেন না।
(২) কোন কর্মচারী তাহার তত্ত্বাবধানের অধীন, নিয়ন্ত্রণাধীন বা তাহার উপর নির্ভরশীল কোন ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশে প্রচলিত কোন আইনে সরকারের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কার্য বলিয়া গণ্য হয়, এইরূপ কোন আন্দোলেনে বা কর্যক্রমে অংশগ্রহণ করিতে বা যে কোন উপায়ে সহযোগিতা করিবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন না।
(৩) কোন কর্মচারী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অথবা কোন স্থানীয় সংস্থা বা পরিষদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিতে বা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহন করিতে অথবা অন্য কোনভাবে হস্তক্ষেপ করিতে বা প্রভাব খাটাইতে পারিবেন না।
(৪) যদি কোন কর্মচারী ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোন বক্তৃতা দিয়া থাকেন অথবা অন্য কোন প্রকারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেকে প্রার্থী হিসাবে বা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে জনসম্মুখে কোন ঘোষণা করিয়া থাকেন বা ঘোষণা করার অনুমতি প্রদান করিয়া থাকেন, তাহা হইলে, তিনি উক্ত প্রবিধান (৩) এর মর্ম মতে উক্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া বিবেচিত হইবে।
(৫) স্থানীয় সংস্থা বা পরিষদের নির্বাচনের প্রার্থী হইবার জন্য একজন কর্মচারীর ক্ষেত্রে কোন আইনের দ্বারা বা আওতায় বা সরকারের কোন আদেশে অনুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে, ঐ সংস্থা পরিষদসমূহের নির্বাচনের ক্ষেত্রে উপ-প্রবিধান (৩) ও (৪) এ উল্লিখিত বিধানসমূহ যতটুকু প্রয়োগযোগ্য ততটুকু প্রযোজ্য হইবে।
(৬) কোন আন্দোলন বা কর্মকান্ড এই উপ-প্রবিধানের আওতায় পড়ে কিনা, সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে এই বিষয়ে ট্রাস্টের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

৪৪। নারী সহকর্মীদের প্রতি আচরণ:

কোন কর্মচারী নারী সহকর্মীদের প্রতি এমন কোন ভাষা ব্যবহার বা আচরণ করিতে পারিবেন না, যাহা অনুচিত, এবং অফিসিয়াল শিষ্টাচার ও নারী সহকর্মীদের মর্যাদার হানি ঘটায়।

৪৫। স্বার্থের দ্বন্দ্ব:

যখন কোন কর্মচারী নিজ দায়িত্ব পালনকালে দেখিতে পান যে,–
(ক) কোন কোম্পানি বা ফার্ম বা অন্য কোন ব্যক্তির সহিত কোন চুক্তি সম্পর্কিত যে কোন বিষয়ে তাহার পরিবারের কোন সদস্য বা নিকটাত্মীয়ের স্বার্থ রহিয়াছে এমন কোন বিষয় তাহার বিবেচনাধীন আছে; এবং
(খ) উক্তরুপ কোম্পানি, ফার্ম বা ব্যক্তির অধীন তাহার পরিবারের কোন সদস্য বা কোন নিকটাত্মীয় কর্মরত আছেন, তাহা হইলে উক্ত বিষয়টি তিনি নিজে বিবেচনা না করিয়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সিদ্ধান্তের জন্য প্রেরণ করিবেন।

৪৬। সরকারি সিদ্ধান্ত, আদেশ, ইত্যাদি:

কোন কর্মচারী সরকারের বা কর্তৃপক্ষের কোন সিদ্ধান্ত বা আদেশ পালনে জনসম্মুখে আপত্তি উত্থাপন করিতে বা যে কোন প্রকারে বাধা প্রদান করিতে পারিবেন না, অথবা অন্য কোন ব্যক্তিকে তাহা করিবার জন্য উত্তেজিত বা প্ররোচিত করিতে পারিবেন না।

৪৭। বিদেশি মিশন ও সাহায্য সংস্থার নিকট তদবির:

কোন কর্মচারী নিজের জন্য বিদেশ ভ্রমণের আমন্ত্রণ সংগ্রহ অথবা বিদেশে প্রশিক্ষণের সুবিধা লাভের জন্য দেশে অবস্থিত কোন বিদেশি মিশন বা সাহায্য সংস্থার নিকট প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন তদবির করিতে পারিবেন না।

৪৮। নাগরিকত্ব, ইত্যাদি:

(১) কোন কর্মচারী ট্রাস্টের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোনো বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করিতে পারিবেন না।
(২) যদি কোন কর্মচারীর স্বামী বা স্ত্রী বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী তাহা ট্রাস্টকে অবহিত করিবেন।

৪৯। আচরণ সংক্রান্ত বিধানের প্রযোজ্যতা:

যে ক্ষেত্রে আচরণ সংক্রান্ত কোন বিধান এই প্রবিধানমালায় বর্ণিত হয় নাই, সেই ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীগণের জন্য প্রযোজ্য বিধিবিধান প্রযোজ্য হইবে।

৫০। দণ্ডের ভিত্তি:

কর্তৃপক্ষের মতে যেক্ষেত্রে কোনো কর্মচারী–

(ক) অসদাচরণের দায়ে দোষী হন; অথবা
(খ) পলায়নের দায়ে দোষী হন; অথবা
(গ) দুর্নীতিপরায়ণ হন, অথবা নিম্নবর্ণিত কারণে দুর্নীতি পরায়ণ বলিয়া যুক্তিসংগতভাবে বিবেচিত হন-
(অ) তিনি বা তাহার উপর নির্ভরশীল অথবা অন্য যে কোনো ব্যক্তি তাহার মাধ্যমে বা তাহার পক্ষে যদি তাহার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আর্থিক সম্পদ বা সম্পত্তির (যাহার যুক্তিসংগত হিসাব দিতে তিনি অক্ষম) অধিকারী হন, অথবা
(আ) তিনি তাহার প্রকাশ্য আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন জীবন-যাপন করেন; অথবা
(ই) তাহার বিরুদ্ধে দুর্নীতিপরায়ণতার অব্যাহত কুখ্যাতি থাকে; অথবা
(ঘ) নাশকতামূলক কর্মে লিপ্ত হন বা লিপ্ত রহিয়াছেন বলিয়া সন্দেহ করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে, অথবা নাশকতামূলক কাজে লিপ্ত অন্যান্য ব্যক্তির সহিত জড়িত রহিয়াছেন বলিয়া সন্দেহ করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে, এবং সেই কারণে তাহাকে চাকরিতে রাখা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হানিকর বলিয়া বিবেচিত হয়, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ উক্ত কর্মচারীর উপর এক বা একাধিক দণ্ড আরোপ করিতে পারিবে।

৫১। দণ্ড:

এই প্রবিধানমালার অধীনে নিম্নবর্ণিত দুই প্রকারের দণ্ড আরোপ করা যাইবে, যথা:– লঘুদণ্ড ও গুরুদণ্ড ।

(১) লঘুদণ্ডসমূহ নিম্নরুপ হইবে, যথাঃ-;

(ক) তিরস্কার;
(খ) চাকরি বা পদ সম্পর্কিত বিধি বা আদেশ অনুযায়ী পদোন্নতি বা আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির অযোগ্যতার ক্ষেত্র ব্যতীত, নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা;
(গ) কর্তব্যে অবহেলা বা সরকারি আদেশ অমান্য করিবার কারণে সংঘটিত ট্রাস্টের আর্থিক ক্ষতির সম্পূর্ণ অংশ বা উহার অংশবিশেষ, বেতন বা আনুতোষিক হইতে আদায় করা; অথবা
(ঘ) বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিতকরণ।

(২) গুরুদণ্ডসমূহ নিম্নরুপ হইবে, যথাঃ-
(ক) নিম্নপদে বা নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ;
(খ) বাধ্যতামূলতক অবসর প্রদান;
(গ) চাকরি হইতে অপসারণ;
(ঘ) চাকরি হইতে বরখাস্তকরণ।

(৩) উপপ্রবিধি (২) এর অধীন কোন কর্মচারীর উপর-
(ক) চাকরি হইতে অপসারণের দন্ড আরোপ করা হইলে তিনি সরকারের অধীন বা কোনো আইনের দ্বারা বা আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থার (Body Corporate) চাকরিতে নিযুক্ত হইবার অযোগ্য হইবেন না; এবং
(খ) চাকরি হইতে বরখাস্তকরণের দন্ড আরোপ করা হইলে সরকারের অধীন বা কোন আইনের দ্বারা বা আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত কোন সংবিধিবদ্ধ সংস্থার চাকরিতে নিযুক্ত হইবার অযোগ্য হইবেন।

(৪) এই প্রবিধিতে উল্লিখিত দণ্ডসমূহ নিম্নরূপভাবে আরোপ করা যাইবে, যথাঃ-
(ক) অদক্ষতার জন্য তিরস্কার এবং চাকরি হইতে বরখাস্ত ব্যতীত যেকোনো দণ্ড;
(খ) অন্য যে-কোনো অদক্ষতার জন্য চাকরি হইতে বরখাস্ত ব্যতীত যেকোনো দণ্ড;
(গ) অসদাচরণের জন্য যেকোনো দণ্ড;
(ঘ) পলায়নের জন্য তিরস্কার ব্যতীত যেকোনো দণ্ড;
(ঙ) দুর্নীতির জন্য যেকোনো দণ্ড, তবে উক্ত অপরাধের পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে নিম্নপদ বা নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ দণ্ড ব্যতীত যেকোনো দণ্ড;
(চ) নাশকতামূলক কার্যকলাপের জন্য নিম্নপদে বা নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ ব্যতীত যে-কোনো দণ্ড।

(৫) ট্রাস্টের কোনো কর্মচারীর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অধস্তন কোনো কর্তৃপক্ষ এই প্রবিধিনমালার অধীন কোন গুরু`Ð আরোপ করিতে পারিবেন না।
(৬) “চাকরি হইতে অপসারণ” ও “চাকরি হইতে বরখাস্তকরণ” অভিব্যক্তি অর্থে এইরুপ কোন ব্যক্তির চাকরি হইতে অব্যাহতি (Discharge) অন্তর্ভুক্ত হইবে না যিনি-
(ক) শিক্ষানবিশ হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হইয়া তাহার মেয়াদ চলাকালে বা তাহার প্রতি প্রযোজ্য শিক্ষানবিশকাল; অথবা
(খ) চুক্তি ব্যতীত অন্য যে কোনো উপায়ে কোন অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ধরিয়া রাখিবার জন্য, সেই নিযুক্তকাল শেষ হইলে; অথবা
(গ) কোন চুক্তির অধীনে নিযুক্ত হইলে সেই চুক্তির শর্ত মোতাবেক ।

৫২। নাশকতামূলক কার্যকলাপের ক্ষেত্রে তদন্তের পদ্ধতি:

(১) ট্রাস্টের কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রবিধি ৫৩ এর (ঘ) তে -উল্লিখিত কার্যকলাপের জন্য কার্যধারা সূচনা করিবার ক্ষেত্রে, কর্তৃপক্ষ-

(ক) সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টের কর্মচারীকে, লিখিত আদেশ দ্বারা, উক্ত আদেশে উল্লেখিত তারিখ হইতে প্রাপ্যতা অনুযায়ী ছুটিতে যাইবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে;
(খ) তাহার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করিবে, সেই ব্যবস্থার ভিত্তি সম্পর্কে তাহাকে লিখিতভাবে অবহিত করিবে; এবং
(গ) অভিযোগ তদন্তের জন্য উপপ্রবিধি (২) এর অধীন অভিযোগ তদন্তের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটির নিকট তাহার বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত ব্যবস্থার বিপক্ষে কারণ দর্শাইবার জন্য তাহাকে যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান করিবে:
তবে, শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ মনে করিবেন যে বাংলাদেশের নিরাপত্তার স্বার্থে এইরূপ সুযোগ প্রদান করা সমীচীন নহে, সেইক্ষেত্রে তাহাকে এইরূপ সুযোগ প্রদান করা হইবে না।

(২) যেক্ষেত্রে উপপ্রবিধি (১)-এর দফা (গ) অনুসারে তদন্ত কমিটি গঠন করার প্রয়োজন হয়, সেইক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ট্রাস্টের কর্মচারীর পদমর্যাদার নিম্নে নহেন, এইরূপ তিনজন কর্মচারীর সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করিবে।
(৩) উপপ্রবিধি (২)-এর অধীনে গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের তদন্ত করিবেন এবং নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নিকট তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যাদি প্রতিবেদন আকারে পেশ করিবে এবং নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত তথ্যাদির ভিত্তিতে যেইরূপ উপযুক্ত বলিয়া মনে করিবে সেইরূপ আদেশ প্রদান করিবে।

৫৩। jNy`Ð আরোপের লক্ষ্যে তদন্তের কার্যপদ্ধতি:

(১) এই প্রবিধানমালার অধীনে কোন কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিধি ৫৩-এর দফা (ক) বা (খ) বা (গ)-তে বর্ণিত কারণে কার্যধারা সূচনা করিবার প্রয়োজন হয় কর্তৃপক্ষ যদি এহেন অভিমত পোষণ করেন যে, তাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হইলে তাহাকে তিরস্কার অপেক্ষা কঠোরতর কোন দন্ড প্রদান করা হইবে, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ-

(ক) অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ তাহাকে লিখিতভাবে অবহিত করিবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক অভিযোগনামা প্রাপ্তির ১০ (দশ) কার্যদিবসের মধ্যে তাহার আচরণের কৈফিয়ত প্রদানের জন্য এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে শুনানির ইচ্ছা পোষণ করেন কিনা, তাহাও জানাইবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিবে; এবং
(খ) অভিযুক্ত ব্যক্তি দফা (ক)-এর অধীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পেশকৃত কৈফিয়ত, যদি থাকে, বিবেচনা করিবেন, এবং তিনি যদি ব্যক্তিগত শুনানির ইচ্ছা পোষণ করিয়া থাকেন, তাহা হইলে, তাহার ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করিবেন অথবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি তিনি কৈফিয়ত পেশ না করিয়া থাকেন, তাহা হইলে, এইরূপ সময়ের মধ্যে তাহাকে লঘুদণ্ড প্রদান করিতে পারিবেন।
তবে, শর্ত থাকে যে, কর্তৃপক্ষ যুক্তিযুক্ত মনে করিলে অভিযোগ তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন ১ (এক) জন কর্মচারীকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করিবে।

(২) তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হইতে তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর, কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর আদেশের পক্ষে যুক্তি ও প্রমাণ উল্লেখ করিয়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণক্রমে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অবহিত করিবে অথবা প্রয়োজন মনে করিলে, পুনঃতদন্ত বা অধিকতর তদন্তের জন্য আদেশ প্রদান করিবে।
(৩) উপপ্রবিধি ২ এর অধীন তদন্তের আদেশ দেওয়া হইলে, কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কর্মচারী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।
(৪) যেক্ষেত্রে ট্রাস্টের কর্মচারীর বিরুদ্ধে উল্লিখিত কার্যধারা সূচনা করিতে হয় এবং কর্তৃপক্ষ অভিমত পোষণ করিলে, অভিযোগ প্রমাণিত হইলে, অভিযুক্তকে তিরস্কার দণ্ড প্রদান করা হইবে, সেই ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ ব্যক্তিগতভাবে তাহার শুনানি গ্রহণ করত উক্ত দন্ডের কারণ লিপিবদ্ধ করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রতি উক্ত দণ্ড আরোপ করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি উপস্থিত না হন বা উপস্থিত হইতে অস্বীকার করেন তাহা হইলে শুনানি ব্যতিরেকেই তাহার উপর উক্ত দণ্ড আরোপ করা যাইবে, অথবা তিরস্কার অপেক্ষা গুরুদন্ড আরোপ করা যাইবে। যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবী করেন যে, তাহাকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাইতে হইবে, তাহা হইলে উপ-প্রবিধান (১) হইতে (৩) এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হইলে তিরস্কার অপেক্ষা গুরুদন্ড আরোপ করা যাইবে।

৫৪। গুরুদণ্ড আরোপের ক্ষেত্রে তদন্তের পদ্ধতি:

(১) এই প্রবিধানমালার অধীনে ট্রাস্টের কোন কর্মচারীর বিরুদ্ধে কার্যধারা সূচনা করিতে হইলে এবং কর্তৃপক্ষ যদি মনে করেন যে, অভিযোগ প্রমাণিত হইলে গুরুদণ্ড আরোপ করা প্রয়োজন, সেই ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ

(ক) অভিযোগনামা প্রণয়ন করিবে ও উহাতে প্রস্তাবিত দণ্ডের বিষয়ে উল্লেখ করিবে, এবং যে সকল অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযোগনামাটি প্রণীত হইয়াছে, উহার বিবরণ এবং কর্তৃপক্ষ আদেশ প্রদানের সময়ে অন্য যে সকল পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করিবার ইচ্ছা পোষণ করেন উহাসহ অভিযোগনামাটি উক্ত কর্মচারীকে অবহিত করিবে;
(খ) অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অভিযোগনামা অবহিত করিবার ১০ (দশ) কার্যদিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত বক্তব্য পেশ করিবেন এবং সেই সাথে প্রস্তাবিত দণ্ড কেন তাহার উপর আরোপ করা হইবে না তদসম্পর্কে কারণ দর্শাইতে বলিবে এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে শুনানির ইচ্ছা পোষণ করেন কিনা তাহাও উল্লেখ করিবে;
তবে শর্ত থাকে যে, উল্লেখিত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেন, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ তাহাকে লিখিত বিবৃতি পেশ করিবার জন্য অতিরিক্ত ১০ (দশ) কার্যদিবস পর্যন্ত সময় প্রদান করিতে পারিবে।

(২) যেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্ধারিত বা বর্ধিত সময়ের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য লিখিত বিবৃতি পেশ করিবেন সেই ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট অভিযোগ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়াদি স্বাক্ষ্য প্রমাণসহ তাহার বিবৃতি বিবেচনা করিবেন এবং অনুরূপ বিবেচনার পর কর্তৃপক্ষ যদি অভিমত পোষণ করিয়া থাকেন যে–
(ক) অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুচিত কার্যধারাটি অগ্রসর হইবার মতো উপযুক্ত ভিত্তি নাই তাহা হইলে, উক্ত অভিযোগ প্রত্যাহার করিবে এবং তদানুসারে উক্ত কার্যধারা নিস্পত্তি হইবে;
(খ) যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি শর্তহীনভাবে সকল অভিযোগ স্বীকার করেন এবং কর্তৃপক্ষ যদি মনে করেন যে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় লঘুদণ্ড আরোপযোগ্য হইবে, তাহা হইলে, যে কোন লঘুদণ্ড আরোপ করিবে, তবে গুরুদণ্ড আরোপযোগ্য হইবে বলিয়া ধারণা করা হইলে কর্তৃপক্ষ দফা (ঘ) অনুযায়ী তদন্ত কর্মকর্তা বা তদন্ত বোর্ড নিয়োগ করিবে;
(গ) যদি অভিযুক্ত ব্যক্তির উপর গুরুদন্ড আরোপের জন্য পর্যাপ্ত কারণ থাকে, তাহা হইলে অভিযোগ তদন্তের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির পদমর্যাদা নিম্নে নহেন এমন একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা অথবা একটি তদন্তকারী বোর্ড নিয়োগ করিবে।

(৩) যেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্ধারিত বা বর্ধিত সময়ের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনে কোন লিখিত বক্তব্য দাখিল না করেন, তাহা হইলে নির্ধারিত বা বর্ধিত সময় শেষ হইবার তারিখ হইতে ১০ (দশ) কার্য দিবসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ অভিযোগনামায় বর্ণিত অভিযোগ তদন্ত করিবার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এইরূপ একজন তদন্ত কর্মকর্তা অথবা তিনজন কর্মকর্তা সমন্বয়ে একটি তদন্ত বোর্ড নিয়োগ করিবেন।
(৪) তদন্তকারী কর্মকর্তা বা ক্ষেত্রমত, তদন্তকারী বোর্ড তদন্তের আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৭ (সাত) কার্য দিবসের মধ্যে, তদন্তের কাজ আরম্ভ করিবেন এবং প্রবিধান বর্ণিত পদ্ধতি অনুসারে তদন্ত পরিচালনা করিবেন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা বা তদন্তকারী বোর্ড কর্তৃপক্ষের নিকট উহার তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করিবেন।
(৫) তদন্তকারী কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, তদন্ত বোর্ডের তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে দ্বিমতের কারণে ভিন্ন তদন্তকারী কর্মকর্তা বা তদন্ত বোর্ড নিয়োগ করা যাইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, তদন্ত চলাকালে নিম্নবর্ণিত কারণে নূতন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ বা তদন্ত বোর্ড পুনর্গঠন করা যাইবে, যথা:–

(ক) তদন্ত কর্মকর্তা বা তদন্ত বোর্ডের কোনো সদস্যের মৃত্যু হইলে;
(খ) তদন্ত কর্মকর্তা বা তদন্ত বোর্ডের কোনো সদস্য চাকরি হইতে পদত্যাগ করিলে;
(গ) তদন্ত কর্মকর্তা বা তদন্ত বোর্ডের কোনো সদস্য চাকরি হইতে অবসর গ্রহণ করিলে; বা
(ঘ) তদন্ত কর্মকর্তা বা তদন্ত বোর্ডের কোনো সদস্য চাকরিতে দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে তদন্তকার্য সম্পাদনে অসমর্থ বলিয়া প্রতীয়মান হইলে।

(৬) উপপ্রবিধি (৫) এর বিধান অনুযায়ী নূতন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ বা তদন্ত বোর্ড পুনর্গঠন করা হইলে নূতন তদন্ত কর্মকর্তা বা পুনর্গঠিত তদন্ত বোর্ড c~‡e©i অসমাপ্ত তদন্তের ধারাবাহিকতায় তদন্তের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করিবে।
(৭) তদন্তকারী কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, তদন্ত বোর্ডের প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর কর্তৃপক্ষ উহা বিবেচনা করিয়া অভিযোগের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হইবার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয়ে পুনঃতদন্তের প্রয়োজনীয়তা মনে করিলে, একই তদন্তকারী কর্মকর্তা বা তদন্তবোর্ডকে সুনির্দিষ্ট বিষয় ও তথ্যসমূহ উল্লেখ করিয়া অভিযোগ পুনঃতদন্তের আদেশ দিতে পারিবে।
(৮) তদন্ত কর্মকর্তা বা তদন্ত বোর্ডের তদন্ত প্রতিবেদন বা পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর কর্তৃপক্ষ উহা বিবেচনা করিবে, অভিযোগের বিষয়ে উহার সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করিবে এবং উক্ত সিদ্ধান্ত, তদন্ত প্রতিবেদনের কপিসহ, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অবহিত করিবে।
(৯) কর্তৃপক্ষ উপপ্রবিধি (৮) এর অধীন গুরুদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলে, প্রস্তাবিত দণ্ড কেন অভিযুক্ত ব্যক্তির উপর আরোপ করা হইবে না সেই সম্পর্কে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৭ (সাত) কর্ম দিবসের মধ্যে কারণ দর্শাইবার নির্দেশ প্রদান করিবে।
(১০) এই প্রবিধানের অধীনে তদন্ত কার্যক্রম এবং যেইক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তা বা তদন্ত বোর্ড নিয়োগ করা হয়, সেইক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তা বা তদন্ত বোর্ডের প্রতিবেদন এবং প্রতিবেদনে প্রদত্ত মতামত ও পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণাদির ভিত্তিতে হইতে হইবে।

৫৫। নোটিশ জারির পদ্ধতি:

(১) এই প্রবিধিনমালার প্রবিধি ৫৪ (৫) (৬) (৭) এর অধীনে অভিযুক্ত ব্যক্তির বরাবরে নোটিশ জারি করিতে হইবে। (২) উপ-বিধি (১) এর অধীন নোটিশ জারির ক্ষেত্রে অভিযুক্তের বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানায় দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৫-এর উপ-বিধি ১ হইতে ৩০ অনুসরণক্রমে নোটিশ জারি করা হইলে বা অভিযুক্তের ই-মেইল ঠিকানায় নোটিশ প্রেরণ করা হইলেও উহা যথাযথভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাহার আচরণের জন্য ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্তির কারণে চাকরি হইতে বরখাস্ত বা চাকরি হইতে অপসারিত অথবা পদাবনমিত হন; অথবা যেইক্ষেত্রে অভিযুক্তকে চাকরি হইতে বরখাস্ত অথবা চাকরি হইতে অপসারিত অথবা পদাবনতি করিবার জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, অভিযুক্তকে কারণ দর্শাইবার সুযোগ প্রদান যুক্তিযুক্তভাবে বাস্তবসম্মত নহে এবং কর্তৃপক্ষ ইহার স্বপক্ষে কারণ লিপিবদ্ধ করেন।

৫৬। শারীরিক বা মানসিক অসমর্থ্যতা সম্পর্কে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আদেশদানের ক্ষমতা:

(১) যেইক্ষেত্রে মানসিক বা শারীরিক অসমর্থ্যতার কারণে অদক্ষতার জন্য কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চালুর প্রস্তাব করা হয়, সেইক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ উক্ত কার্যধারার যে কোনো পর্যায়ে উক্ত কর্মচারীকে মেডিকেল বোর্ড বা সিভিল সার্জন দ্বারা, যেইক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ ‡hBiƒc নির্দেশ দিবেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবেন এবং মেডিকেল বোর্ড বা সিভিল সার্জনের প্রতিবেদন বিভাগীয় মামলার কার্যধারার অংশ বলিয়া গণ্য হইবে। (২) কোনো কর্মচারী যদি উক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উপস্থিত হইতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন, তাহা হইলে, উপস্থিত না হইবার স্বপক্ষে তাহার প্রদত্ত কোনো ব্যাখ্যা সাপেক্ষে, উক্ত অস্বীকৃতিকে তাহার বিরুদ্ধে এই মর্মে বিবেচনা করা যাইবে যে, অনুরূপ পরীক্ষার ফলাফল তাহার অনুকূলে যাইবে না মর্মে তিনি বিশ্বাস করেন।

৫৭। তদন্ত কর্মকর্তা কর্তৃক অনুসরণীয় কার্যপ্রণালী:

(১) তদন্ত কর্মকর্তা একাধারে প্রতিদিন সংশ্লি¬ষ্ট বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠান করিবেন এবং কারণ লিপিবদ্ধ না করিয়া উক্ত শুনানি মূলতবী করিবেন না।
(২) তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক পরিচালিত তদন্তে-
(ক) অভিযুক্ত ব্যক্তি যে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন সেই সকল অভিযোগ সম্পর্কে, মৌখিক স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হইবে এবং উভয় পক্ষকে অভিযোগ সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক বা গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক সাক্ষ্য উপস্থাপনের যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান করিতে হইবে এবং এইরূপ কোন স্বাক্ষ্য উপস্থাপিত হইলে উহা বিবেচনা করিতে হইবে;
(খ) অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতিপক্ষের সাক্ষীগণকে জেরা করায়, ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষ্য প্রদান করিবার এবং তাহার পক্ষ সমর্থনকারী কোন ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসাবে উপস্থাপন করিবার অধিকারী হইবেন;

৫৮। সাময়িক বরখাস্ত:

(১) কোন কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিধি ৫৩ (১) এর (খ) বা (গ) বা (ঘ) এর অধীন কোন অভিযোগের দায়ে গুরুদন্ড প্রদানের সম্ভাবনা থাকিলে, কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় বা সমীচীন মনে করিলে উক্ত কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করিতে পারিবে; তবে শর্ত থাকে যে, কর্তৃপক্ষ অধিকতর সমীচীন মনে করিলে, এইরূপ কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার পরিবর্তে লিখিত আদেশ দ্বারা উক্ত আদেশে উল্লিখিত তারিখ হইতে তাহার ছুটি প্রাপ্যতা সাপেক্ষে, তাহাকে ছুটিতে যাইবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(২) কোন কর্মচারীর বিরুদ্ধে আরোপিত চাকরি হইতে বরখাস্ত বা অপসারণের দন্ড কোন আদালত বা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের দ্বারা বা উহার ফলে বাতিল বা অকার্যকর বলিয়া ঘোষিত হয় এবং কর্তৃপক্ষ, বিষয়টির পরিস্থিতি বিবেচনার পর, মূলতঃ যে অভিযোগের ভিত্তিতে তাহাকে বরখাস্ত বা অপসারণের দন্ড দেওয়া হইয়াছিল সেই ব্যাপারে, তাহার বিরুদ্ধে আরো তদন্ত কার্য চালাইবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, সে ক্ষেত্রে উক্ত বরখাস্ত বা অপসারণের দন্ড আরোপের মূল আদেশের তারিখ হইতে উক্ত কর্মচারী সাময়িকভাবে বরখাস্ত হইয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি সাময়িকভাবে বরখাস্ত থাকিবেন।
(৩) কোন কর্মচারী সাময়িকভাবে বরখাস্ত থাকিবার সময়ে সরকারি বিধি ও আদেশানুযায়ী খোরাকী ভাতা পাইবেন।
(৪) ঋণ বা ফৌজদারী অপরাধের দায়ে কারাগারে সোপর্দ (‘কারাগারে সোপর্দ’ অর্থে ‘হেফাজতে’ রক্ষিত ব্যক্তিগণও অন্তর্ভুক্ত বলিয়া গণ্য হইবেন) কর্মচারীকে গ্রেফতারের তারিখ হইতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত বলিয়া গণ্য করিতে হইবে এবং তাহার বিরুদ্ধে এই প্রবিধানমালার অধীন সূচিত কার্যধারা পরিসমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি যথারীতি খোরাকী ভাতা পাইবেন।

৫৯। চাকরি হইতে বাধ্যতামূলকভাবে অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত অথবা বরখাস্তকৃত কর্মচারীগণের ক্ষতিপূরণ অবসরভাতা, আনুতোষিক, ইত্যাদি:

(১) ক্ষতিপূরণ, অবসর ভাতা বা আনুতোষিকের পরিমাণ সম্পর্কে সরকারের যে কোনো আদেশ সাপেক্ষে, একজন বাধ্যতামূলকভাবে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, অতঃপর বর্ণিত বিধানের ক্ষেত্র ব্যতীত, এইরূপ ক্ষতিপূরণ অবসরভাতা বা আনুতোষিক বা ভবিষ্যৎ তহবিল সুবিধাদি প্রাপ্য হইবেন সেইরূপে, তিনি যদি কোনো বিকল্প উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা ব্যতীত তাহার পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরিচ্যুত হইতেন তাহা হইলে, তাহার চাকরি বা পদের প্রতি প্রযোজ্য বিধিসমূহের অধীনে অবসর গ্রহণ তারিখে যেইরূপ প্রাপ্য হইতেন: তবে শর্ত থাকে যে, সাময়িক বরখাস্তকালের পর বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের ক্ষেত্রে উক্ত ক্ষতিপূরণ অবসর ভাতা বা আনুতোষিক বা ভবিষ্যৎ তহবিল সুবিধাদি সাময়িক বরখাস্তকাল বাদ দিয়া কেবল চাকরিকালের জন্য প্রাপ্য হইবেন: আরো শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে কোনো অস্থায়ী কর্মচারীকে মানসিক বা শারীরিক অসামর্থ্যের কারণে অদক্ষতা হেতু অবসর প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস এর বিধি ৩২১ এর অধীনে অবসরকালীন সুবিধাদি পাইবেন।

৬০। পুনর্বহাল:

(১) প্রবিধি ৫৪-এর উপ-বিধি (১) এর অনুচ্ছেদ (ক) এর অধীনে প্রদত্ত আদেশ অনুযায়ী ছুটিতে প্রেরিত কোনো কর্মচারীকে যদি বরখাস্ত, অপসারণ, নিম্নপদে পদাবনমিত বা বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করা না হয়, তাহা হইলে, ক্ষেত্রমতে, তাহাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হইবে, অথবা তাহাকে তাহার পদমর্যাদায় আসীন বা সমপদ মর্যাদা প্রদান করা হইবে এবং তাহার উক্ত ছুটিকাল পূর্ণবেতনে কর্তব্যকাল বলিয়া গণ্য হইবে। (২) সাময়িক বরখাস্তের পর পুনর্বহাল সংক্রান্ত বিষয়াদি বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে।

৬১। আদেশের বিরুদ্ধে আপিল:

(১) কোনো কর্মচারী এই উদ্দেশ্যে সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট, অথবা যেক্ষেত্রে এইরূপ কোনো কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত নাই, সেইক্ষেত্রে আদেশদানকারী কর্তৃপক্ষের পরবর্তী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট, অথবা যেক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অধস্তন কোনো কর্তৃপক্ষ আদেশদান করিয়াছেন, সেক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নিকট, নিম্নবর্ণিত যে-কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করিতে পারিবেন, যথাঃ– (ক) তাহার উপর যে কোনো দণ্ড আরোপের আদেশের বিরুদ্ধে; (খ) চুক্তির ভিত্তিতে নিযুক্ত হইয়া চুক্তির শর্তানুসারে চাকরির অবসানের সময় পর্যন্ত একনাগাড়ে ০৫ (পাঁচ) বৎসরের অধিককাল চাকরিতে নিয়োজিত থাকিলে, উক্ত ক্ষেত্রে চাকরির অবসান ঘটানোর আদেশের বিরুদ্ধে; (গ) তাহার বেতন, ভাতাদি, পেনশন বা চাকরির অন্যান্য শর্তাবলি যাহা চাকরির বিধি বা চুক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহার স্বার্থের প্রতিকূলে পরিবর্তন, রদবদল, বা অগ্রাহ্য করিবার আদেশের বিরুদ্ধে; অথবা (ঘ) চাকরির যে বিধি বা চুক্তি দ্বারা তাহার বেতন, ভাতাদি, পেনশন বা চাকরির অন্যান্য শর্তাবলি নিয়ন্ত্রিত হয়, উহার কোনো বিধানে তাহার স্বার্থের প্রতিকূল ব্যাখ্যা সংবলিত আদেশের বিরুদ্ধে।

৬২। আপিল দায়েরের সময়সীমা:

যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হইবে, উক্ত আদেশ সম্পর্কে আপিলকারী অবহিত হইবার তারিখের ০৩ (তিন) মাসের মধ্যে আপিল দায়ের করা না হইলে এই প্রবিধানমালায় অধীনে কোনো আপিল গ্রহণ করা হইবে না: তবে শর্ত থাকে যে, যদি আপিল কর্তৃপক্ষ mš‘ó হন যে, যথা সময়ে আপিলকারীর আপিল দায়ের করিতে না পারিবার পর্যাপ্ত কারণ রহিয়াছে, তাহা হইলে উক্ত কর্তৃপক্ষ উপরোল্লিখিত মেয়াদ অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও পরবর্তী ০৩ (তিন) মাসের মধ্যে কোন আপিল বিবেচনার জন্য গ্রহণ করিতে পারিবেন।

৬৩। আপিল দায়েরের রীতি ও পদ্ধতি:

(১) এই প্রবিধিনমালার অধীন আপিল দায়ের করিতে হইলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে পৃথকভাবে এবং স্বীয় নামে আপিল দায়ের করিতে হইবে। (২) উপপ্রবিধি (১) এর অধীন আপিল কর্তৃপক্ষকে সম্বোধন করিয়া দায়েরকৃত প্রতিটি আপিল আবেদনকারী কর্তৃক তাহার স্বপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ও যুক্তি নির্ভর তথ্যসমূহ অন্তর্ভুক্তিক্রমে স্বয়ংসম্পূর্ণরুপে দায়ের করিতে হইবে এবং উহাতে কোন অসম্মানজনক বা অশোভন ভাষা ব্যবহার করা যাইবে না। (৩) প্রতিটি আপিল আবেদন আপিলকারী যেই অফিসে কর্মরত আছেন সেই অফিসের অফিস প্রধানের মাধ্যমে অথবা, তিনি চাকরিরত না থাকিলে, সর্বশেষ যে অফিসে চাকরিরত ছিলেন সেই অফিসের অফিস প্রধানের মাধ্যমে এবং যেই কর্তৃপক্ষের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হইতেছে, উক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দায়ের করিতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, আপিল আবেদনের একটি অগ্রিম কপি আপিল কর্তৃপক্ষের নিকট সরাসরি দাখিল করা যাইবে।

৬৪। আপিল নিষ্পত্তি:

(১) কোনো দণ্ড আরোপের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে, আপিল কর্তৃপক্ষ নিম্নোক্ত বিষয়গুলি বিবেচনা করিবেন এবং যেইরূপ আদেশ প্রদান করা উপযুক্ত মনে করিবেন সেইরূপ আদেশ প্রদান করিবেন- (ক) এই প্রবিধিনমালায় বর্ণিত নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসৃত হইয়াছে কিনা এবং যদি না হইয়া থাকে, তবে অনুসৃত না হওয়ার কারণে ন্যায় বিচার ব্যহত হইয়াছে কিনা; (খ) অভিযোগের উপর প্রাপ্ত তথ্যাদি যথার্থ কিনা; এবং (গ) আরোপিত দণ্ড মাত্রাতিরিক্ত, পর্যাপ্ত বা অপর্যাপ্ত কিনা। (২) `Ðv‡`k ব্যতীত অন্যকোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে, আপিল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সম্পর্কিত তথ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনা করিবে এবং যেইরূপ আদেশ প্রদান যথাযথ ও ন্যায়সঙ্গত বলিয়া বিবেচিত হইবে সেইরূপ আদেশ প্রদান করিবেন। (৩) যে কর্তৃপক্ষের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হইয়াছে উক্ত কর্তৃপক্ষ আপিল কর্তৃপক্ষের আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে আপিল কর্তৃপক্ষের আদেশ কার্যকর করিবেন।


অষ্টম অধ্যায়: ভবিষ্য তহবিল, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা


৬৫। ভবিষ্য তহবিল:

ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা প্রদানের ব্যাপারে, সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সকল বিধি বা বিধান ট্রাস্টে কর্মরত সকল কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে। ট্রাস্টে কর্মরত প্রত্যেক কর্মচারীর জন্য পৃথক ভবিষ্য তহবিল হিসাব খোলা হইবে। সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্ধারিত হারে চাঁদা প্রদান করিতে হইবে।

৬৬। আনুতোষিক:

(১) নিম্নোক্ত যে কোন কর্মচারী আনুতোষিক পাইবেন, যথাঃ- (ক) যিনি কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টে কমপক্ষে (০৩) তিন বৎসর অব্যাহতভাবে চাকরি করিয়াছেন এবং শাস্তিস্বরূপ চাকরি হইতে বরখাস্ত, পদচ্যুত বা অপসারিত হন নাই; (খ) যিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে চাকরি হইতে পদত্যাগ বা চাকরি ত্যাগ করেন নাই; এবং (গ) ০৩ (তিন) বৎসর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে নিম্নের কোন কারণে যে কর্মচারীর চাকরির অবসান হইয়াছে, যথাঃ- (অ) তিনি যে পদে নিযুক্ত রহিয়াছেন সেই পদ বিলুপ্ত হইয়াছে অথবা পদ সংখ্যা হ্রাসের কারণে তিনি চাকরি হইতে ছাঁটাই হইয়াছেন; (আ) সম্পূর্ণ বা আংশিক অসামর্থের কারণে তাহাকে চাকরি হইতে বরখাস্ত করা হইয়াছে; অথবা (ই) চাকরিরত থাকাকালে তিনি মৃত্যুবরণ করিয়াছেন। (২) কোন কর্মচারীকে তাহার চাকরির প্রত্যেক পূর্ণ বৎসর বা উহার অংশ বাবদ একশত বিশ কার্যদিবসের ঊর্ধ্বে কোন সময়ের জন্য দুই মাসের মূল বেতনের হারে আনুতোষিক প্রদান করা হইবে (৩০ বৎসর ৫ মাস চাকরি করলে ৬১ মাসের আনুতোষিক)। (৩) সর্বশেষ গৃহীত বেতন আনুতোষিক গণনার মূল ভিত্তি হইবে। (৪) কোন কর্মচারীর মৃত্যুর কারণে আনুতোষিক প্রাপ্য হইলে যাহাতে তাহার মনোনীত ব্যক্তি/ব্যক্তিগণ উহা পাইবার অধিকারী হন তজ্জন্য প্রত্যেক কর্মচারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দান করিবেন। (৫) কোন কর্মচারী উপ-প্রবিধান (৪) অনুযায়ী একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দান করিলে, তাহার মনোনয়নপত্রে, তাহাদিগকে প্রদেয় অংশ এইরূপে উল্লে¬খ করিবেন যেন আনুতোষিকের সম্পূর্ণ টাকা উহাতে অন্তর্ভুক্ত হয়, এবং যদি এইরূপে উল্লে¬খ করা না হয় তবে টাকার পরিমাণ সমান অংশে ভাগ করা হইবে। (৬) কোন কর্মচারী মনোনীত ব্যক্তিগণকে যে কোন সময়ে লিখিত নোটিশ দ্বারা উক্ত মনোনয়নপত্র বাতিল করিতে পারেন, এবং এইরূপ করার সময়ে, উক্ত নোটিশের সহিত উপ-প্রবিধান (৪) ও (৫) এর অনুসারে একটি নতুন মনোনয়নপত্র প্রেরণ করিবেন। (৭) কোন মনোনয়নপত্র না থাকিলে কর্মচারীর মৃত্যুর পর তাহার আনুতোষিকের টাকা উত্তরাধিকার প্রমান পত্রের ভিত্তিতে তাহার বৈধ ওয়ারিশ বা ওয়ারিশগণকে প্রদান করা হইবে।

৬৭। অবসর ভাতা ও অবসর গ্রহণ সুবিধা:

(১) কর্তৃপক্ষ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, লিখিত আদেশ দ্বারা সাধারণ ভবিষ্য তহবিল, অবসর ভাতা ও অবসরজনিত সুবিধাদি সংক্রান্ত পরিকল্প (Scheme) চালু করিতে পারিবে এবং এইরূপ পরিকল্প সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে সরকারি কর্মচারীগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিমালা ও সরকার কর্তৃক তৎসম্পর্কে সময়ে সময়ে জারীকৃত আদেশ বা নির্দেশ প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ প্রযোজ্য হইবে। (২) উপ-পবিধান (১) এ উল্লিখিত পরিকল্প চালু করা হইলে প্রত্যেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী উক্ত পরিকল্পের অধীন অবসর ভাতা ও অবসর গ্রহণ সুবিধাদি গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করিতে পারিবেন। (৩) উপ-পবিধান (২) অনুসারে ইচ্ছা প্রকাশ করা হইলে তাহা চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্তরূপ ইচ্ছা প্রকাশ করিবার পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারী, ট্রাস্টের কর্মচারীগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিমালা ও সরকার কর্তৃক তৎসম্পর্কে সময়ে সময়ে জারীকৃত আদেশ বা নির্দেশ অনুযায়ী অবসর ভাতা ও অবসর গ্রহণ সংক্রান্ত সুবিধাদি পাইবেন।


নবম অধ্যায়: অবসর গ্রহণ, চাকরি অবসান ও অব্যাহতি


৬৮। অবসর গ্রহণ:

অবসর গ্রহণ এবং উহার পর পুনঃনিয়াগের ব্যাপারে কোন কর্মচারী Public Servants Retirement Act, 1974 (XII of 1974) এর বিধানাবলী দ্বারা পরিচালিত হইবেন। প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ট্রাস্টের কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ অবসর ভাতা ও অবসর গ্রহণ সুবিধা পাবেন। সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে আইনের পরিবর্তন/সংশোধনীও ট্রাস্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।

৬৯। চাকরির অবসান, চাকরি হইতে অপসারণ, ইত্যাদি:

(১) উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কোন কারণ প্রদর্শন না করিয়া, এবং এক মাসের নোটিশ প্রদান করিয়া অথবা উক্ত নোটিশের পরিবর্তে এক মাসের বেতন প্রদান করিয়া, কোন শিক্ষানবিসের চাকরির অবসান ঘটাইতে পারিবেন এবং শিক্ষানবিস তাঁহার চাকরি অবসানের কারণে কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ পাইবেন না। (২) এই প্রবিধানমালায় ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কোন কারণ দর্শাইয়া কোন কর্মচারীকে ৯০ (নব্বই) দিনের নোটিশ দান করিয়া অথবা ৯০ (নব্বই) দিনের বেতন নগদ পরিশোধ করিয়া তাহাকে চাকরি হইতে অপসারণ করিতে পারিবেন।

৭০। ইস্তফাদান, ইত্যাদি:

(১) কোন কর্মচারী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট তাহার অভিপ্রায় উল্লে¬খপূর্বক ০৩ (তিন) মাসের লিখিত পূর্ব-নোটিশ প্রদান না করিয়া তাহার চাকরি ত্যাগ করিতে বা চাকরি হইতে বিরত থাকিতে পারিবেন না, এবং ঐরূপ নোটিশ প্রদানে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে, তিনি ট্রাস্টে তাহার ০৩ (তিন) মাসের বেতনের সমপরিমাণ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেন। (২) কোন শিক্ষানবিস তাহার অভিপ্রায় উল্লেখপূর্বক ০১ (এক) মাসের লিখিত পূর্ব-নোটিশ প্রদান না করিয়া তাহার চাকরি ত্যাগ করিতে পারিবেন না, এবং এইরূপ নোটিশ প্রদানে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে, তিনি ট্রাস্টকে তাহার ০১ (এক) মাসের বেতনের সমপরিমাণ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেন। (৩) যে কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃংখলাজনিত ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হইয়াছে তিনি ট্রাস্টের চাকরি হইতে ইস্তফা দান করিতে পারিবেন নাঃ তবে শর্ত থাকে যে, ট্রাস্টি বোর্ড যেইরূপ উপযুক্ত বলিয়া বিবেচনা করিবেন সেইরূপ শর্তে কোন কর্মচারীকে ইস্তফাদানের অনুমতি দিতে পারিবে।


দশম অধ্যায়: বিবিধ


৭১। পরামর্শক নিয়োগ:

ট্রাস্ট ইহার কাজের সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি বিধি বিধান অনুসরণপূর্বক ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদনক্রমে পরার্শক/জাতীয় সমন্বয়ক নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে । পরামর্শক/জাতীয় সমন্বয়কের নিয়োগ যোগ্যতা, বয়সসীমা, কর্মপরিধি (দায়িত্ব), বেতন-ভাতাদি ও লজিস্টিক্সসহ অন্যান্য সুবিধাদি ট্রাস্টি বোর্ডে কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।

৭২। সমঝোতা (MOU) স্মারক:

(ক) ট্রাস্ট ইহার কাজের সুবিধার জন্য সরকারের অনুমতিক্রমে কোন বিদেশি সংস্থার সাথে সমঝোতা (MOU) স্মারক স্বাক্ষর করিতে পারিবে।
(খ) ট্রাস্ট ইহার কাজের সুবিধার জন্য দেশি কোন সরকারি অথবা আধা সরকারি অথবা স্বায়ত্বশাসিত অথবা কোন বেসরকারি সংস্থার সাথে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা (MOU) স্মারক এবং আর্থিক চুক্তি স্বাক্ষর করিতে পারিবে।

৭৩। অসুবিধা দুরীকরণ:

যে ক্ষেত্রে এই প্রবিধানমালার কোন বিষয়ে সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কোন বিধিমালা বা আদেশ বা নির্দেশ প্রয়োগ বা অনুসরণের বিধান আছে, কিন্তু উহা প্রয়োগ বা অনুসরণে অসুবিধা দেখা দেয়, সে ক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ড সরকারের কোন সাধারণ বা বিশেষ নির্দেশ সাপেক্ষে, লিখিত আদেশ দ্বারা, উক্ত বিষয়ে প্রযোজ্য বা অনুসরণীয় পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পরিবে এবং এই ব্যাপারে ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।

ফাইল ডাউনলোড করুন

Share with :